Top News

নন্দীগ্রামে পরকীয়া অভিযোগে সংসার ভাঙল, প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

 

ছবি: সংগৃহীত

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:

পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে অনশন শুরু করেছেন এক সন্তানের জননী রিমা আক্তার (১৯)। তবে খবর পেয়ে অভিযুক্ত প্রেমিক তাজ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কাবাষট্টি গ্রামে ঘটে। রিমা আক্তার বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ঢাকুইর গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে। অভিযুক্ত তাজ নুর ইসলাম কাবাষট্টি গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তাজ নুর বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।

স্থানীয় সূত্র ও অনশনরত পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিমার সাবেক স্বামী মোফাজ্জল হোসেনের বাড়িও কাবাষট্টি গ্রামে, যা তাজ নুর ইসলামের বাড়ির পাশেই। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে রিমা ও তাজ নুরের মধ্যে পরিচয় গড়ে ওঠে। পরে সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের দাবি, গত ২২ জুলাই রাতে রিমার স্বামী মোফাজ্জল হোসেন তাঁদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে ওই রাতেই রিমাকে তালাক দেওয়া হয়। এরপর সংসার ভেঙে যাওয়ায় নিজেকে অসহায় দাবি করে পরদিন বুধবার সকালে মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে তাজ নুর ইসলামের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবি জানান রিমা।

তবে রিমা বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত তাজ নুর ইসলামসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান। এরপরও বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন রিমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

অনশনরত রিমা আক্তার বলেন, তাজ নুরের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই আমার সংসার ভেঙে গেছে। স্বামী আমাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। এখন তাজ নুর যদি আমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করে, তাহলে আমার বেঁচে থাকার কোনো পথ থাকবে না।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ তরুণীর দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন, আবার কেউ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত তাজ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত বলে তারা মনে করছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post