সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার যমুনা নদীবিধৌত এক জনগুরুত্বপূর্ণ জনপদ পাকুল্লা ইউনিয়ন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখন বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। আর এই নির্বাচনি হাওয়া ও জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক ত্যাগী নেতা জিএম আলী হাসান নারুন। যিনি পাকুল্লা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্যবদলের সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন দলীয় নেতা-কর্মীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন, তেমনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে পাকুল্লার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।
জিএম আলী হাসান নারুনের রাজনৈতিক জীবন ও সমাজসেবার ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ ও অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি সোনাতলা উপজেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য এবং এর আগে অত্যন্ত সফলতার সাথে পাকুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু স্থানীয় রাজনীতিই নয়, তাঁর নেতৃত্বের হাতেখড়ি হয়েছিল ছাত্ররাজনীতির সোনালি দিনগুলোতে, যখন তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে সাহসিকতার সাথে রাজপথে ভূমিকা রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের ঝাণ্ডা ধরে রাখা এই নেতা দলের প্রতিটি সংকটে ও দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছেন ছায়ার মতো। ফলে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝেও উনাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল এক উদ্দীপনা।এছাড়াও তিনি ওই ইউনিয়নের ৪দলীয় ঐক্যজোটের আহবায়ক ছিলেন।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং এলাকার তরুণ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি পাকুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাদানের ব্যাপারে অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি মনে করেন, একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার হলো শিক্ষা। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পাকুল্লা ইউনিয়নের প্রতিটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
পাকুল্লা ইউনিয়নের একটি বড় সমস্যা হলো ভৌগোলিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবহেলা। নদীভাঙন কবলিত এবং অবহেলিত এই অঞ্চলের রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা জনগণের নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো সরকারি বরাদ্দের সঠিক বণ্টন না হওয়া। এই জায়গায় জিএম আলী হাসান নারুন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ওএমএস, টিসিবির কার্ড এবং ভিজিএফসহ সরকারের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ও বরাদ্দ কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি ছাড়া সরাসরি প্রকৃত হকদার ও গরিব মানুষের মাঝে বণ্টন করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদকে তিনি একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেন, যেখানে সাধারণ মানুষকে তাদের প্রাপ্য অধিকারের জন্য কোনো টেবিল বা দালালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না।
এছাড়াও পাকুল্লা ইউনিয়নের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটাতে দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাকুল্লা ইউনিয়নের মানুষ একজন যোগ্য, সৎ এবং সাহসী অভিভাবক চান, যিনি শুধু ক্ষমতার লোভ দেখাবেন না, বরং জনগণের সেবক হয়ে কাজ করবেন।


Post a Comment