ছবি সংগৃহীত:
নিজস্ব প্রতিবেদক,
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে ৪ জুলাই রাতে সোনাতলা থানায় দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মরিয়া হয়ে মাঠে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে উপজেলার পাকুল্লা বাজার এলাকার জয়নাল ইসলামের ছেলে জিসান ইসলাম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ছাত্রীটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করা, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তের স্বজনদের জানালেও অভিযোগ অনুযায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ জুন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে অপর এক আসামি কথা বলার অজুহাতে ছাত্রীটিকে স্থানীয় এনামুল হাজীর বাড়ির কাছে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন প্রধান অভিযুক্ত জিসান ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ছাত্রীর চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন। ছাত্রীটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য আসামিরা তার পথরোধ করে কাঠের বাটাম ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। এতে ছাত্রীটি গুরুতর আহত হয়।
পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা থানায় মামলা করেন। মামলায় জিসান ইসলাম, সিহাব মিয়াসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় ডেকে এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”


Post a Comment