Top News

সোনাতলায় ঈশিতা ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির অপচেষ্টায় নবজাতকের মৃত্যু

 


ছবি:বিজয়২১নিউজ

  সোনাতলা(বগুড়া)প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলায় ঈশিতা  ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির অপচেষ্টার কারণে গর্ভস্থ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।এঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের মহেশপাড়া গ্রামের ছালজার রহমানের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছা. সাহেলা বেগম গত ২৬ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে প্রসব ব্যথা অনুভব করলে  তাকে সোনাতলার ঈশিতা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়।

ছালজার রহমানের অভিযোগ, ক্লিনিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা জানান যে, সেখানে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব। তিনি রোগীর জন্য যেটি নিরাপদ ও প্রয়োজনীয়, সেটিই করার অনুরোধ জানালে, পরবর্তীতে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করতে গিয়ে গর্ভস্থ শিশুর হাত ধরে টানা-হেঁচড়া করা হলেও প্রসব করানো সম্ভব হয়নি। এতে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রসূতিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, নরমাল ডেলিভারি সম্ভব নয় এবং জরুরি সিজারিয়ান অপারেশন প্রয়োজন। পরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মৃত নবজাতক প্রসব করানো হয়।

ছালজার রহমান দাবি করেন, হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন,নবজাতকের একটি হাত ভাঙা ছিল এবং হাতটি অস্বাভাবিকভাবে নরম হয়ে গিয়েছিল।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কয়েকদিন আগে একই ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে জানানো হয়েছিল যে, শিশুর অবস্থান উল্টো (ব্রিচ প্রেজেন্টেশন) থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়া স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব নয়। সেই তথ্য জানার পরও কেন নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নবজাতকের বাবা। তার অভিযোগ, এই অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় ছালজার রহমান সোনাতলা থানায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


এ বিষয়ে ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী এমদাদুল হক টুকুর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সোনাতলা থানার সেকেন্ড অফিসার গৌতম চক্রবর্তী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন কবিরাজ বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post