Top News

জনপ্রতিনিধিত্ব কোন পেশা নয়,জনগণের সেবাই একমাত্র লক্ষ্য ---এবিএম মাজেদুর রহমান

 


ছবি:বিজয় 21 news

সোনাতলা (বগুড়া)প্রতিনিধিঃ আসন্ন স্হানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউপির নির্বাচনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল 'বিজয় ২১ নিউজকে 'একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের সমাজে যারা জনপ্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হন, তারা সেটাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন।আসলে জনপ্রতিনিধিত্ব কোন পেশা নয়, জনগণের সেবাই একমাত্র লক্ষ্য। কথা নয়,কাজে হবে পরিচয়।নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ভোট নেওয়ার জন্য নানা রকম প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। আমি নির্বাচনের আগে জনগণের মাঝে কোন প্রকার ওয়াদাবদ্ধ না হয়ে জনগণ যদি তাদের পবিত্র আমানত আমাকে প্রদান করে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেন তাহলে আমি কাজের মাধ্যমে আমি আমার পরিচয় বহন করব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৬০/৭০টি সেবা জনগণের পাওয়ার সুযোগ থাকলেও জনগণ তা যথাযথ ভাবে নিতে পারেনা।সরকারের দেওয়ার সুযোগ-সুবিধা জনগণের মাঝে যথাযথ ভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জনগণের মাঝে আমি মিশিয়ে যেতে চাই। আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের না বলা কথাগুলো শুনতে চাই।পাকুল্লা ইউনিয়নের প্রধান সমস্যার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন,নদী ভাঙন আমার এলাকার প্রধান সমস্যা। আমার পুরো ইউনিয়নটি যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত। বর্ষার মৌসুমে আমার ইউনিয়নের মানুষ পানি বন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা হয়ে যায়। বিগত সরকারের সময় আমার ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটে কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি।আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে যথাযথ কতৃপক্ষের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নের কাজ করব।এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে মাদক বিক্রি করে আর যে সেবন করে উভয়ই আমার ভাই। তাদের কোন দোষ নেই। সব দোষ আপনার, আমার এবং আমাদের তথা রাষ্ট্রের। আমরা যদি তাদের হাতে কর্ম তুলে দিতে পারতাম তারা কখনো এই কাজগুলো করতে পারত না।আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তাদের হাতে উপযুক্ত কর্ম তুলে দিয়ে তাদেরকে দেশের  সম্পদ বানাতে চাই। তিনি আরও বলেন, দেশে আজকের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী রয়েছে। তারা আজকে পরিবার, সমাজ ও দেশের বোঝা হয়েছে। আমি আমার ইউনিয়নের প্রত্যেক শিক্ষিত বেকারদের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে তাদেরকে সমাজের বোঝার পরিবর্তে মূল্যবান সম্পদের রুপান্তর করতে চাই।

বিগত সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন,আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্হা ধংসের পথে। বিগত সময়ে গ্রামের স্কুল থেকে পড়াশোনা করে সচিব, ডিসি এবং এসপি হয়েছে। বর্তমানে সেই মানের পড়াশোনা গ্রামের স্কুলে আর হয়না।আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ স্কুলগুলোতে ২টার পড়ে গিয়ে অনেক শিক্ষককে পাওয়া যায় না।আবার অনেক শিক্ষক যথা সময়ে স্কুলে যাতায়াত করেন।আমি এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুলে অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমস্যা চিহ্নিত করে এবং তা সমাধান করে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে চাই। এছাড়াও যথাযথ কতৃপক্ষের মাধ্যমে  বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে চান।নারীদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারীদের হাত কর্মের হাতের রুপদান করতে হবে।পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির উন্নয়ন পুরুষের দ্বারা একক ভাবে সম্ভব না।দেশের মোট ভোটারের বেশি অংশ নারী।এজন্য তাদের স্বাধীন ভাবে, পর্দার মধ্যে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। তার প্রয়োজনে বাসায় বসে, সেলাই, হস্ত শিল্প,গবাদিপশু পালনসহ নানা রকম কাজ করতে পারবে। 

মাজেদুর রহমান জুয়েল উপজেলার পাকুল্লা গ্রামের মরহুম ছালজার রহমান মাষ্টারের কনিষ্ঠ পুত্র।দাম্পত্য জীবনে সে পুত্র-কন্য সন্তানের জনক। সে বগুড়া সরকারি মোস্তাফাবিয়া মাদরাসা থেকে আলীম,সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয় অর্নাস ও ঢাকা উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।বর্তমানে মাজেদুর রহমান জুয়েল বগুড়া শহরের মফিজ পাগলার মোড়ে ইসলামি হাসপাতালে পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।ছাত্র জীবনে সে কখনো কোন চাকরির জন্য আবেদন করেন নি বলে তিনি জানান। 

মাজেদুর রহমান জুয়েল প্রতিবেদকে আরও বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, আমার ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।।সারা দেশের মানুষ পাকুল্লা ইউনিয়নকে এক নামে চিনবে ও জানবে।এজন্য তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post