Top News

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিরসনে রামেক পরিচালককে মহানগর ছাত্রদলের স্মারকলিপি

 


ছবি:সংগৃহীত


নিউজ ডেস্ক :

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে লাখো মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট এবং জবাবদিহিতার অভাবে হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



বুধবার ( ১৯ আগস্ট)  দুপুর সাড়ে বারো টায় রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের উদ্যােগে রামেক( রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ উল ইসলাম বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। 



স্মারকলিপিতে বিদ্যমান সমস্যা উল্লেখ করা হয়েছে : কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স, ওয়ার্ডবয় ও চিকিৎসকের অসহযোগিতামূলক আচরণ, পেশাগত দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি রোগীসেবার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিৎসা নিতে আগত রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে প্রভাব বা বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সেবাপ্রাপ্তিতে বৈষম্য দেখা দিচ্ছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ওয়াশরুম, করিডোর ও আশপাশের পরিবেশে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাদ্যের গুণগত মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।



অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের ওয়ার্ড রাউন্ড সম্পন্ন না হওয়ায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে শয্যা সংকট প্রকট হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিইউসহ বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত,হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দালালচক্র, কিছু এ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমের ফলে রোগী ও স্বজনরা বিভ্রান্তি, প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন,জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নেবুলাইজেশন এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা উপকরণ ও সেবার পর্যাপ্ততা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, 




হাসপাতালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় রয়েছে এবং জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে পর্যাপ্ত অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়,নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অসাধু চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, হাসপাতাল সংলগ্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবায় মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অননুমোদিত বা মানহীন যানবাহন এ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার, বাইরে থেকে ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যাওয়ায় বাধা দেয়া এবং রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।





উপরোক্ত সমস্যাসমূহের কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মহানগর ছাত্রদল দাবি করেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টার অভিযোগ হটলাইন ও ব্যবস্থাপনা সেল চালু, বহির্বিভাগে পর্যাপ্ত বসার ও সেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত, চিকিৎসকদের নিয়মিত রাউন্ড, হাসপাতালকে দালাল-সিন্ডিকেটমুক্ত রাখা, পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে শয্যা ও বিশেষায়িত ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অচল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল, নবজাতক ইউনিটে প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশন সুবিধা, নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও কার্যকর মনিটরিং এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।



উল্লিখিত বিষয়গুলো জনস্বাস্থ্য ও মানুষের মৌলিক চিকিৎসা অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মানসম্মত, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে।




এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন বলেন, "স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান সব ধরনের সিন্ডিকেট ও অনিয়ম দূর করার দাবিতে আমরা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। দুর্নীতি যে-ই করুক না কেন, তার কোনো ছাড় নেই। আমরা স্বাস্থ্য খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম দেখতে চাই না। এসব অনিয়ম দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সমাধান করা হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"



এ বিষয় মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন বলেন,"এই সমস্যাগুলো আজকের নয়, দীর্ঘদিন ধরেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসব সমস্যা বিদ্যমান। বর্তমান সরকারের ১৮১ দিনের পথচলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সুন্দর, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হলো স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের চিকিৎসাসেবার সমস্যাগুলো তুলে ধরে সমাধানে ভূমিকা রাখতে কাজ করছি।"

Post a Comment

Previous Post Next Post