Top News

পীরগাছায় সমিতি খুলে গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সোহেল, বক্তব্য মেলেনি সমবায় কর্মকর্তার

 


পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি 


রংপুরের পীরগাছায় সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধনে সমবায় সমিতি খুলে প্রায় ১১শ গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকার আমানত নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন মাহমুদুল হাসান সোহেল নামে এক ব্যক্তি। 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে ভুক্তভোগীরা প্রতিকারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট সাক্ষাৎ করেন। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিকট অপারগতা প্রকাশ করেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের দামুরচাকলা এলাকার অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান সোহেল প্রায় চার বছর আগে হাসনা আলোর যাত্রী গ্রাম সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ নামে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়ে সঞ্চয় গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেন। যার নিবন্ধন নম্বর ৮। উক্ত সমিতির নিবন্ধন নিয়ে পরবর্তীতে ভিলেজ ভিজিটাল ব্যাংক নামে পাশ বই ছাপিয়ে ২৫ জন দলনেতা নিয়োগ করে দ্বিগুন লাভ প্রদানের প্রলোভনে বিভিন্ন ধরনের আমানত সংগ্রহ শুরু করেন। 

গত এক সপ্তাহে আগে প্রায় ১১ শ গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা নিয়ে সমিতির কার্যালয়ের কিছু মালামাল লাপাত্তা হন অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান সোহেল। 

বুধবার রাতে সমিতির কার্যালয়ের অবশিষ্ট মালামাল তার বউকে দিয়ে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে ভুক্তভোগীরা সোহেলের বউকে আটক করে। 

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা অনেক কষ্ট করে ওই সমিতিতে টাকা জমা করছিলেন। এখন তাদের টাকা দ্বিগুন ফেরত দেওয়ার কথা। অথচ সোহেল সবকিছু নিয়ে পালিয়ে গেছে। তার এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও টাকা ফেরত প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই প্রতারনার দায় উপজেলা সমবায় কার্যালয় এড়াতে পারেননা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের কার্যালয়ে গেলে তিনি বিভিন্ন তালবাহানায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেননি।

তবে জেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহিদুল হাসান জানান, এ ব্যাপারে মামলা হবে। দায়ীদের বিষয়ে সমবায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতারনার বিষয়ে সমবায় দপ্তরের কোন দায় আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি তিন মাস হলো এই জেলায় দায়িত্ব পালন করছি। আগে কি ঘটেছে তা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগের বিষয়টি অডিট করে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি কেন বক্তব্য দেননি এটা তার কাছে শুনতে হবে। তবে উনি বক্তব্য দিতে পারতেন। আমি বিষয়টি দেখছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাদেরকে মামলা করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদেরকে আইনগত সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post