Top News

ভারি বৃষ্টিতে ডুবে গেছে যশোর শহরের নিম্নাঞ্চল


ছবি:সংগৃহীত


নিউজ ডেস্ক :মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশের মতো যশোরেও দফায় দফায় ভারী ও হালকা বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ২০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টির কারণে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাটও। জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

যশোর বিমানবন্দরস্থ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ২০ ঘণ্টায় যশোরে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার এবং আজ সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ছুটির দিনে এই মুষলধারে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 


শহরের খড়কি, বেজপাড়া, চাঁচড়া, শংকরপুর, আরবপুর, পালবাড়ি ও বকচর এলাকাগুলোতে বৃষ্টি নামলেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। 


পৌরসভার দেয়া তথ্য মতে, যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১.৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৯.২২ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৬৯.২৫ কিলোমিটার ইটের গাঁথুনির ড্রেন, পাঁচ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন এবং ১২৮.৪৯ কিলোমিটার এখনো কাঁচা ড্রেন। অর্থাৎ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি অংশ এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, যা বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে বাধা তৈরি করছে।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শুধু ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় সাত কিলোমিটার নতুন আরসিসি ড্রেন নির্মাণে ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। 


জলাবদ্ধতার বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী (পানি ও পয় নিস্কাশন) এস এম কামাল হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই শহরের অধিকাংশ ড্রেন পরিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু জনগনের অসচেতনতার কারণে এসব ড্রেন ফের প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্যে ভরে গেছে। তাছাড়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পানি জমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সময় লাগছে। আশা করা যায় নতুন করে বৃষ্টিপাত না হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শহরের রাস্তাঘাটের পানি নেমে যাবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post